কর্ণফুলী টানেল বিস্তারিত তথ্য

কর্ণফুলী টানেল বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে জানতে গুগলে সার্চ করছেন। তাহলে নিচের আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ুন । কেননা এ আর্টিকেলের মধ্যে আলোচনা করেছি কর্ণফুলী টানেল সম্পর্কে বিস্তারিত  সকল তথ্য। সাথে আর বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছি কর্ণফুলী টানেল টানেলের টোল  সে সম্পর্কে।

কর্ণফুলী টানেল বিস্তারিত তথ্য

অবশেষে উদ্বোধন করা হলো কর্ণফুলী  নদীর তল দেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন সড়ক টানেল। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ডিজিটাল টানেলের যুগে প্রবেশ করলো। দক্ষিণ এশিয়ায় নদীর তল দেশ দিয়ে যানবাহন চলাচলকারী প্রথম টানেল হল কর্ণফুলী টানেল  । 

 কর্ণফুলী টানেল বিস্তারিত তথ্য

টানেলের মোট আয়োতন সেতু বিভাগের ওয়েবসাইটের বর্ণনা অনুযায়ী-

  • টানেলের মোট দৈর্ঘ্য : ৯.৩৯ কিলোমিটার
  • মূল টানেলের দৈর্ঘ্য : ৩.৩১৫ কিলোমিটার
  • টানেলের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে সংযোগ সড়ক : ৫.৩৫ কিলোমিটার
  • টানেলের প্রবেশ পথ : চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরের কাছে
  • কর্ণফুলী নদীর ভাটির দিকে নেভি কলেজের কাছে

বঙ্গবন্ধু টানেল ইতিহাস

কর্ণফুলী টানেল ইতিহাস বলতে টানেল সকল তথ্য নিয়ে আলোচনা করাকে বোঝায়।কর্ণফুলী টানেল কর্ণফুলী নদীর তীরে নির্মাণ করায় এ টানেল এর নাম কর্ণফুলী টানেল নাম করন করা হয়।কর্ণফুলী টানেল মূলত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য নির্মাণ করা হয়।সেতু কর্তৃপক্ষের ধারণা অনুযায়ী,২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিন পিং প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। 

আরো পড়ুনঃ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রর বিস্তারিত তথ্য

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি  কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন। কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের কাজ শেষ হয়ার পর ২৮ অক্টোবর রোজ শনিবার ২০২৩ সালে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। ২০২৩ সালের সংশোধিত বাজেটে, প্রকল্পের মেয়াদ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এছাড়া, নির্মাণ ব্যয়ও ১৬৪ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়।

বঙ্গবন্ধু টানেল অর্থায়ন

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ধারণা অনুযায়ী, কর্ণফুলী টানেল সুড়ঙ্গ নির্মাণে ব্যয় ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিন পিং এর ঢাকা সফরে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি অনুযায়ী চীনের এক্সিম ব্যাংক ২০ বছর মেয়াদি ঋণ হিসাবে দুই শতাংশ সুদে ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা দিচ্ছে। বাকি অর্থায়ন বাংলাদেশ সরকার করছে।

বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মতে, নদীর নিচের সুড়ঙ্গটির নির্মাণ কাজ করে চীনা কোম্পানি চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড। সুড়ঙ্গের বিভিন্ন অংশ চীনের ঝেনজিয়াংয়ে উৎপাদন করে বাংলাদেশে আনা হয়। ২০২২ সালের মধ্যে সুড়ঙ্গটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৩ সাল পর্যন্ত নির্মাণ কাজ অব্যাহত ছিল। টানেলের প্রতি টিউবের প্রস্থ ৩৫ ফুট এবং উচ্চতা ১৬ ফুট। এছাড়া, দুটি টিউবের মধ্যবর্তী ব্যবধান ১১ মিটার।সুড়ঙ্গটির মূল দৈর্ঘ্য ৩.৩২ কিলোমিটার। তবে এর সঙ্গে ৫.৩৫ কিলোমিটারের সংযোগ সড়ক যুক্ত।

বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণে ব্যয়

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ধারণা অনুযায়ী,কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়ে ছিল আট হাজার ৪৪৬ দশমিক ৬৪ কোটি টাকা। পরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ১০ হাজার ৩৭৪ দশমিক ৪২ কোটিতে দাঁড়ায়। এর মধ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক ২ শতাংশ সুদে ৫ হাজার ৯১৩ দশমিক ১৯ কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি টাকা দেয় বাংলাদেশ সরকার।

টানেলের বহির্গমন 

আনোয়ারা প্রান্তে সার কারখানার কাছে নদীর তল দেশ থেকে টানেলের সর্বোচ্চ গভীরতা ৩১ মিটার। টানেলে আছে বিপরীত মুখী দুটি টিউব। ৩৫ ফুট প্রশস্ত ও ১৬ ফুট উচ্চতার টানেলে টিউব দুটির একটির সঙ্গে আরেকটির দূরত্ব ১২ মিটারের মতো।

প্রতিটি টিউবে দুটি করে মোট চারটি লেইন আছে।টানেলের উত্তরে নগরীর দিক থেকে আউটার রিং রোড, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কাঠগড় সড়ক, বিমানবন্দর সড়ক এবং পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত সড়ক দিয়ে টানেলে প্রবেশ করা যাবে।

আরো পড়ুনঃ স্বপ্নের পদ্মা সেতু বা পদ্মা বহুমুখী সেতু সুবিধা সমূহ

নদীর দক্ষিণ পাসে আনোয়ারায় রয়েছে কোরিয়ান ইপিজেড, চায়না ইপিজেড, সিইউএফএল ও পারকি সমুদ্রসৈকত। কর্ণফুলী পাড় হয়ে আনোয়ারা দিয়েই বাঁশখালী, কক্সবাজার, মাতার বাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মাতার বাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে।

টানেল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব

টানেল নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক মোঃ হারুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, টানেলের ভেতরে কৌতূহল বশত কারো হাটাচলা, সাইকেল কিংবা মোটর সাইকেল নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ রুপে নিষেধ। তা ছাড়া টানেলের ভেতরে কোন প্রকার ওভারটেক করা সম্ভব নয় কারণ মনিটরিং রুম থেকে সব সময় সব কিছু পর্যবেক্ষণ করা হবে।

 কর্ণফুলী টানেল টোল

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের টোল হার নির্ধারণ করা হয়েছে- 

 বঙ্গবন্ধু টানেলের টোল হারঃ

যানবাহনের ধরন 

  টোল হার

মাইক্রোবাস 

 ২৫০

ব্যক্তিগত গাড়ি এবং পিক আপ ট্রাক

 ২০০

বাস (৩২ আসন বা তার অধিক)  

 ৪০০

বাস ( ৩১ আসন) 

৩০০

বড় বাস (ত্রিএক্সএল)

৫০০

ফোরএক্সএল ট্রেলার

১০০০

ত্রিএক্সএল ট্রেলার

৮০০

ট্রাক (১১ টন)  

৬০০

ট্রাক (৮ টন পর্যন্ত) 

৫০০

ট্রাক (৮ টন অধিক)

৬০০

ট্রাক (৫ টন পর্যন্ত)

৪০০

এক্সএল প্রতি অতিরিক্ত চার্জ

২০০


বঙ্গবন্ধু টানেলের  সুবিধা

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয়েছে ,চট্টগ্রাম শহরে নিরবচ্ছিন্ন ও যুগো-পযোগী সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার 'আধুনিকায়ন' করতে এই প্রকল্প করা হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর পূর্বদিকের প্রস্তাবিত শিল্প এলাকার উন্নয়নের দিক যেমন আছে, তেমন পশ্চিম দিকের শহর, বন্দর ও বিমানবন্দরের সাথে উন্নত ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা বলছে সেতু বিভাগ।মূলত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ করা হয়।

আরো পড়ুনঃ  কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থান সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন

  • চট্টগ্রাম শহর শিল্পায়ন ত্বরান্বিতও বাণিজ্যিক সুবিধা পাওয়া যাবে।
  • শিল্পায়নের দিক ছাড়াও পর্যটন শিল্পের বিকাশিত হবে।
  • চট্টগ্রাম থেকে আনোয়ারার তুলনামূলক ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা।
  • ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এর মধ্যে নতুন সড়ক যোগাযোগের কাজে আসবে এই টানেল। বিদ্যমান কর্ণফুলী নদীর উপরের দুই সেতুতে চাপ কমাতেও সাহায্য করবে এই টানেল।
  • বর্তমান কোরিয়ান ইপিজেডের সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের যাতায়াতের তুলনামূলক সুবিধাজনক রুট হবে এই টানেল।
  • ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ৫০ কিলো মিটারের মতো দূরত্ব কমবে এবং সময় বাঁচবে এক ঘণ্টার মত।
  • ভবিষ্যতে এশিয়ান হাইওয়ের সাথে সংযোগ স্থাপন হবে টানেলের মধ্য দিয়ে।
  • চট্টগ্রাম শহরকে চীনের সাংহাই শহরের আদলে “ওয়ান সিটি টু টাউন”বা “এক নগর দুই শহর” এর মডেলে গড়ে তোলা।
  • যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর পর শহরের সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান শিল্প নগরীর আরও হবে।
  • ঢাকা-কক্সবাজার রুটেও চলতে থাকে তাহলে বিভিন্ন জায়গায় ‘বটলনেক’ থাকবে যেখানে যানবাহনের গতি কমে যাবে।
  • ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কোন ধরণের গাড়ি চালালে অল্প জায়গায়, অল্প সময়ে সর্বোচ্চ যাত্রী পরিবহন করতে পারবে।
  • ঢাকা-কক্সবাজারের সড়ক দূরত্ব কমা ছাড়া বড় কোনো বাণিজ্যিক সুবিধা হবে।

 কর্ণফুলী টানেল বিস্তারিত তথ্য-শেষ কথা

উপরে উক্ত আর্টিকেলে আজ আপনাদের সাথে আলোচনার মুখ্য বিষয় ছিল কর্ণফুলী টানেল বিস্তারিত তথ্য সে সম্পর্কে ।এর সাথে আলোচনা করেছি কর্ণফুলী টানেল টোল ও গাড়ি চলাচল এর বিভিন্ন তথ্য সম্বন্ধে।আশা করি আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনি অনেক উপকৃত হয়েছেন এবং আপনারে ভালো লেগেছে।

কর্ণফুলী টানেল সম্পর্কে পোস্টটি পড়ে আপনার কোন কোন বিষয় গুলি ভালো লেগেছে এবং আপনি কত টুকু উপকৃত হয়েছেন তা আপনার নিকটস্থ বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।এমনই পোস্ট পেতে প্রতিদিন নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন। এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url